কৃষি ও কৃষক
ছবি: সংগৃহীত

কাঁচা পাটের ০.৫% উৎসে কর বাতিল চান জুট স্পিনার্সরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশের পাটশিল্পের ওপর করের চাপ কমিয়ে উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁচা পাট কেনার সময় নেওয়া শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর (টিডিএস) সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা হার শূন্যে নামিয়ে আনা।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাটশিল্পের প্রতিনিধিরা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। বৈঠকে তারা শিল্পটির বর্তমান সংকট, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করেন।

সংগঠনটির ভাষ্য, জুট স্পিনিং মিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হলো কাঁচা পাট। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক হাটবাজারে পাট বিক্রি করেন এবং সেখান থেকে মিলগুলো প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করে। ফলে পাট কেনার সময় উৎসে কর কেটে নেওয়ায় মিলগুলোর হাতে থাকা নগদ অর্থের ওপর সরাসরি চাপ তৈরি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের পাটশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে কাঁচা পাটের ওপর টিডিএস আরোপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।

পাটশিল্পের প্রতিনিধিরা করব্যবস্থায় বৈষম্যের বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরেন। তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে একই ধরনের উৎসে করের চাপ নেই। উদাহরণ হিসেবে তারা টেক্সটাইল শিল্পের কথা উল্লেখ করেন। এ খাতে আমদানিনির্ভর কাঁচা তুলনা ব্যবহৃত হলেও উৎসে করের চাপ তুলনামূলক কম বলে দাবি সংগঠনটির।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচা পাটের ক্ষেত্রে উৎসে কর আরোপ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এতে দেশীয় পাটভিত্তিক শিল্পকে অন্য শিল্পের তুলনায় বাড়তি আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে।

বৈঠকে জানানো হয়, গত কয়েক বছরে পাটশিল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে উৎসে করের হার একাধিকবার পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে কাঁচা পাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর কার্যকর রয়েছে।

এ অবস্থায় পাটশিল্পের কাঁচামাল কাঁচা পাটকে উৎসে করের আওতা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তা সম্ভব না হলে অন্তত করহার শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে তারা।

শুধু উৎসে কর নয়, পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর পরিশোধের সময়সীমা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, শিল্পের আর্থিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে কর পরিশোধের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও যৌক্তিক সময় দেওয়া প্রয়োজন।

এ ছাড়া পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমানো, রপ্তানি পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক রাখা এবং শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় কর সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সংগঠনটির মতে, পাটশিল্পকে টেকসই রাখতে কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে কর পরিশোধ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। বিশেষ করে করের চাপ কমানো গেলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

মতামত দিন