ঢাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে অন্য অঞ্চলে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় রাজধানীর বিতরণ ব্যবস্থায় সমন্বয় করে বিদ্যুৎ অন্য অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে ঢাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী লোড কমিয়ে সেখান থেকে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের শিল্পাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। সে সময় উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধান ছিল ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট, যা ওই সময়ের লোডশেডিংয়ের পরিমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় অনেক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ দিতে পারছে না। এর সঙ্গে কিছু কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও যুক্ত হয়েছে। একই সময়ে বিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বাড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
এই ঘাটতি সামাল দিতে রাজধানীর দুই বিতরণ কোম্পানি ডিপিডিসি ও ডেসকোর এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী লোড ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে। ঢাকায় কম ব্যবহারের মাধ্যমে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ হাতে আসছে, তা দেশের অপেক্ষাকৃত বেশি সংকটে থাকা অঞ্চলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
সরকারের এই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো নয়, বরং লোডশেডিংয়ের চাপ বিভিন্ন এলাকার মধ্যে তুলনামূলকভাবে ভাগ করে দেওয়া। এতে ঢাকার বাইরে শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার সমস্যাও কমানোর চেষ্টা চলছে।
তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতির জন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় গ্রিডের সীমাবদ্ধতা কাটানো জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কারিগরি সমস্যা দূর করে উৎপাদন স্বাভাবিক করা গেলে বর্তমান সংকটও ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, আপাতত রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে সরবরাহের ভারসাম্য তৈরি করাই সংকট মোকাবিলার অন্যতম উপায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী এই সমন্বয় অব্যাহত রাখা হবে।
মতামত দিন