দু’দিন পর আকাশে মহাজাগতিক দৃশ্য, দেখা যাবে বিরল চন্দ্রগ্রহণ।
আগামী ২৮ আগস্ট রাতের আকাশে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। পৃথিবীর ছায়া চাঁদের প্রায় পুরো অংশকে গ্রাস করায় সৃষ্টি হবে গভীর আংশিক চন্দ্রগ্রহণ।
গ্রহণের ঘটনাটি শুরু হবে ২৭ আগস্ট রাতেই এবং বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ হবে ২৮ আগস্ট। সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান পর্যায়ে চাঁদের একেবারে সামান্য অংশই সরাসরি সূর্যের আলোয় থাকবে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে আসা আলো ছায়াচ্ছন্ন অংশে পৌঁছালে সেখানে তামাটে বা লালচে আভাও দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশের আকাশে অবশ্য এই দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে গ্রহণের সময় চাঁদ দিগন্তের নিচে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশির ভাগ এলাকা থেকে পুরো গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ইউরোপ ও আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকাতেও এর দৃশ্য মিলবে। তবে অঞ্চলভেদে গ্রহণের দৃশ্যমান সময় ভিন্ন হবে।
বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় পড়বে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টার কিছু পর। নাসার হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ গ্রহণ হবে প্রায় সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে।
পুরো প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলবে। তবে চাঁদের গাঢ় ছায়ায় থাকার মূল আংশিক পর্যায়টি তুলনামূলকভাবে কম সময় স্থায়ী হবে। এই গ্রহণকে ‘ব্লাড মুন’ বলা হলেও এটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ নয়; চাঁদের একটি অংশ ছায়ার বাইরে থাকায় পূর্ণ লাল চাঁদের দৃশ্য তৈরি হবে না।
চন্দ্রগ্রহণের সময় খালি চোখে চাঁদের দিকে তাকানো নিরাপদ। চাইলে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপের সাহায্যে ছায়ার পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
এই গ্রহণটি ২০২৬ সালের গ্রহণমালার দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ। এর আগে ১২ আগস্ট গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনের কিছু অংশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল।
মতামত দিন