হরমুজ ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় পতন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে যোগাযোগের খবরকে কেন্দ্র করে বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৬ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বাজারের ডব্লিউটিআইয়ের দর ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮০ দশমিক ৮৭ ডলার।
এর আগে মঙ্গলবারও উভয় ধরনের তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল। ফলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দরে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আশাবাদ। ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে কথা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি নেভিগেশন করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং প্রণালির কিছু এলাকায় থাকা মাইন সরানোর বিষয়ও রয়েছে।
পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে পরিবহন হওয়া মোট অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির বড় একটি অংশ এই পথ ব্যবহার করে। তাই সামুদ্রিক যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা কমে যায়।
এ কারণেই ইরান-ওমান আলোচনার খবরকে বাজার ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমায় তেলের দরে বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে পরিস্থিতিকে এখনই স্থায়ী স্বস্তির সংকেত হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। দুই দেশের আলোচনার ফলাফল এবং মধ্যপ্রাচ্যে পরবর্তী সময়ে কোনো নতুন সংঘাত বা উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, তার ওপর তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে।
আলোচনা সফল হলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাজারের উদ্বেগ আরও কমতে পারে। অন্যদিকে সমুদ্রপথে আবারও বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে সাম্প্রতিক পতনের পর তেলের দাম দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

মতামত দিন