আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার পাল্টা শুল্কে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ফের তুললেন ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য’ প্রসঙ্গ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়েছে। আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় ওয়াশিংটনের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অটোয়া।

এর পরপরই কানাডাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে আসছে। একই পোস্টে তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য হওয়ার সুবিধা নিতে চাওয়ার অভিযোগও করেন।

দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে। হকি স্টিক, সিমেন্টসহ বেশ কিছু পণ্য এর আওতায় রয়েছে। এই রপ্তানি কানাডার যুক্তরাষ্ট্রে মোট পণ্য রপ্তানির আনুমানিক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের জবাবে কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্বাচিত মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত ও দুগ্ধজাত পণ্যকে এ পদক্ষেপের আওতায় রাখার কথা রয়েছে।

কার্নির অভিযোগ, আলোচনার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন দাবি উত্থাপন করেছে, যেগুলো কানাডার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, প্রস্তাবিত শর্তগুলো দুই দেশের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির সুফল কমিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাব অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও অন্যায্য হওয়ায় কানাডা তা গ্রহণ করবে না। দেশটির সরকার নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, কানাডা পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্রও তার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আপাতত কানাডার আলোচকদের সঙ্গে নতুন করে বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্ত উত্তর আমেরিকার দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও চাপে ফেলেছে। দ্রুত সমঝোতা না হলে আগামী দিনে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মতামত দিন