আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

মহড়া কমালেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া, বাড়ছে ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং উত্তেজনা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই পূর্ব উপকূলের সাগরে একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে প্রায় ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এ ঘটনায় জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক করে এবং সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কোরীয় উপদ্বীপের পূর্বদিকে সাগরে গিয়ে পড়ে। সিউলের ভাষ্য, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন।

এই উৎক্ষেপণের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বার্ষিক সামরিক মহড়ায় মার্কিন অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ১১ দিনের মহড়াটি কমিয়ে পাঁচ দিনে আনা এবং মাঠপর্যায়ের কিছু প্রশিক্ষণ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন ও সিউল।

কিন্তু মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট মনে করছে না পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন না এলে সামরিক মহড়ার পরিমাণ কমানোকে সদিচ্ছার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার বক্তব্যে অবশ্য ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই উঠে এসেছে।

এর মধ্যেই ট্রাম্প জানিয়েছেন, বছরের শেষ দিকে কিম জং উনের সঙ্গে আবার বৈঠকে বসার আগ্রহ রয়েছে তার। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনরায় চালুর মাধ্যমে একটি বড় পররাষ্ট্রনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে চাইছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও জানিয়েছে, উপযুক্ত সময়ে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।

তবে আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে উত্তর কোরিয়ার দাবিগুলো। পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত বৈরী নীতি পরিবর্তন এবং নিজেদের পারমাণবিক অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিতে পারে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন এখনও উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি। ফলে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে একাধিক ঐতিহাসিক বৈঠক হলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা হয়নি। এরপর থেকে উত্তর কোরিয়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ায় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পিয়ংইয়ংয়ের অবস্থানও আগের তুলনায় কিছুটা শক্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

তাই সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে কেবল সামরিক মহড়ার প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের অবস্থান সম্পর্কে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আলোচনায় পিয়ংইয়ংয়ের দর-কষাকষির অবস্থান শক্ত করাও এর উদ্দেশ্য হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া যে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না, সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তার ইঙ্গিত রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

মতামত দিন