কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হবে অক্টোবরে: বিমানমন্ত্রী।
চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যেই কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করার প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। অক্টোবরের মধ্যে এর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য বিমান ভ্রমণ আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
বিমান পরিবহন খাতের সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের হয়রানি কমাতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে ব্যাগেজ কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বিমানে যাত্রী হয়রানির বিষয়টি এখনো পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। এ খাতে আরও কার্যকর পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিমান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও পর্যটন খাতকে আরও কার্যকর এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে, আবার ভালো কাজের জন্য কর্মকর্তাদের পুরস্কৃতও করা হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও সময়সীমা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তুতি ও কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে সময় কিছুটা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বিমান লিজ নেওয়ার উদ্যোগ থাকবে। পাশাপাশি ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া কম খরচে যাত্রীদের বিমান ভ্রমণের সুযোগ দিতে বাজেট এয়ারলাইনস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী। অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে দ্রুতগতির ট্রেন চালু হলে দেশের সব অঞ্চলে নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তাও কমে আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মতামত দিন