গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দরপত্র ছাড়াই ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার।
দেশের চলমান গ্যাস সংকট সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে আরও ১৪ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এসব এলএনজি সংগ্রহ করা হবে।
বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় সরবরাহ সচল রাখতেই দ্রুত এই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানিনির্ভর গ্যাসের ওপর চাপ বেড়েছে, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিস্থিতিতেও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সরকারি ক্রয় আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা মেনেই সরাসরি ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করার কথা রয়েছে।
কমিটির নীতিগত অনুমোদনের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সাতটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হবে। এরপর কার্গোগুলো দেশে এনে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হবে।
সরকারের জ্বালানি পরিকল্পনায় স্পট মার্কেটের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমেও এলএনজি সংগ্রহ করা হচ্ছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গানভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় উৎপাদন দিয়ে গ্যাসের পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজি এখন জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে নতুন কার্গো আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছে সরকার।

মতামত দিন