বিশ্ববাজারে আবারও বেড়ে গেল স্বর্ণের দাম।
বিশ্ববাজারে একদিনের দরপতনের পর আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের মূল্য কমে আসা এবং বিভিন্ন দেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদহার কিছুটা নরম হওয়ায় মূল্যবান ধাতুটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৩৭০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এর আগের দিন স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল। বন্ডবাজারে বিক্রির চাপ কিছুটা কমে আসা এবং ডলারের দুর্বলতা স্বর্ণের দাম পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে।
স্বর্ণের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন। বাজারে এখন ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের পর সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা আগের তুলনায় কমেছে। ফলে সুদ না দেওয়া সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভের জুলাইয়ের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। নীতিনির্ধারকেরা মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে কী ধরনের অবস্থান নিয়েছিলেন, তা থেকে আগামী দিনের মুদ্রানীতির সম্ভাব্য দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের সামনে এখনো ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের দাম এবং সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে স্বল্পমেয়াদে দাম ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। বুধবার স্পট রুপার দাম সামান্য বেড়েছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।
বাংলাদেশের বাজারে অবশ্য আন্তর্জাতিক স্পট দামের সঙ্গে সরাসরি মিল রেখে স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয় না। স্থানীয় বাজারে ডলারের বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক দর, শুল্ক-কর, ভ্যাট ও অন্যান্য খরচের পাশাপাশি বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্ধারিত মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়তে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
মতামত দিন