অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

রামিসা হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির আপিল শুনানি হাইকোর্টে।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় উঠেছে। রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চে মামলাটি ২২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে সোহেলকে পাঁচ লাখ এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এরপর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রামিসার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করার পর ২১ মে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সোহেল। ২৫ মে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান।

১ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। পরদিন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার মাধ্যমে একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হয়। ৩ জুন আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করা হয়।

রায়ে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন। তবে ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া তা কার্যকর করা যাবে না। জরিমানা পরিশোধ না করলে আসামিদের সম্পত্তি ক্রোক ও বিক্রি করে রামিসার উত্তরাধিকারীদের অর্থ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে রায় ঘোষণার পর ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে দুই আসামিও উচ্চ আদালতে জেল আপিল করেন।

মতামত দিন