ব্যবসায়-বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

রেলবহরে আসছে নতুন সুবিধার কোচ, বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে বদলানো হয়েছে নকশা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের রেলযাত্রীদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন প্রজন্মের ব্রডগেজ কোচ। ভারতের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) এবার এমন কিছু পরিবর্তন ও সংযোজন করেছে, যেগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব চাহিদা ও বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুত করা প্রথম রেকে মোট ১৯টি কোচ রয়েছে। বুধবার এটি হস্তান্তরের কথা রয়েছে। রেকটিতে বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এসি স্লিপার, এসি চেয়ার কার, নন-এসি চেয়ার কার এবং পাওয়ার কার রয়েছে।

নতুন কোচের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যাত্রীদের বসার ব্যবস্থায় পরিবর্তন। আসন হেলিয়ে নেওয়ার সুবিধার পাশাপাশি হাতল ও পা রাখার আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ যাত্রায় যাত্রীদের আরাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

শুধু বসার ব্যবস্থা নয়, কোচের ভেতরেও বেশ কিছু নতুন সুবিধা যোগ হয়েছে। এসি কোচে সিসিটিভি নজরদারি, যাত্রী সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও ফ্যানের পাশাপাশি শিশু পরিচর্যার জন্য আলাদা জায়গা এবং নামাজ আদায়ের কক্ষ রাখা হয়েছে। জানালার নকশাতেও এমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে আংশিকভাবে খোলা যায়।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো কোচের ছাদ শক্তিশালী করা। ব্যস্ত সময়ে যাত্রীরা ছাদে উঠে ভ্রমণ করার ঝুঁকি থাকে। সেই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ওজনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে কোচের কাঠামোকে আরও সক্ষম করা হয়েছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন প্রযুক্তিগত মান অনুসরণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় সংঘর্ষের প্রভাব কমিয়ে যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়াতে ইউরোপীয় এন ১৫২২৭ মানদণ্ড অনুযায়ী কোচগুলোর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও বাংলাদেশের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোচগুলো ৪১৫ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যা ভারতীয় রেলের প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের ব্যবস্থার চেয়ে ভিন্ন।

বাংলাদেশের সঙ্গে আরসিএফের এ ধরনের সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৫-১৬ সালে প্রথম দফায় প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ সরবরাহ করেছিল।

পরবর্তী সময়ে রাইটসের মাধ্যমে ২০২৪ সালে আরও বড় পরিসরে সাত ধরনের মোট ২০০টি ব্রডগেজ কোচ তৈরির দায়িত্ব পায় আরসিএফ। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এবার ১৯টি কোচের প্রথম রেক প্রস্তুত হলো।

নতুন কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের আরাম, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘপথের ভ্রমণসুবিধায় নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

মতামত দিন