জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

কাল বন্ধ থাকবে দেশের সব স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আগামীকাল বুধবার শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যেতে হচ্ছে না। পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকারি ছুটির সাধারণ তালিকায় দিনটি না থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির সূচিতে এ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে।

এই ছুটির আওতায় পড়ছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোও এর বাইরে থাকছে না। রাজধানীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে নিজেদের নোটিশে বুধবারের ছুটির বিষয়টি জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও একই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বুধবারের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে।

আখেরি চাহার সোম্বা আসলে কী

ইসলামি পঞ্জিকার সফর মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার সোম্বা বলা হয়। নামটির তিনটি শব্দের অর্থও এর পরিচয় স্পষ্ট করে—‘আখেরি’ মানে শেষ, ‘চাহার’ মানে চার এবং ‘শোম্বা’ মানে বুধবার।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম সমাজে দিনটি ধর্মীয়ভাবে স্মরণ করার প্রচলন রয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় দোয়া, মিলাদ, ওয়াজ, জিকির ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত

প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অসুস্থতার শেষ পর্যায়ে একসময় তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। সফর মাসের শেষ বুধবারের সঙ্গে সেই সময়ের স্মৃতিকে যুক্ত করেই পরবর্তীতে আখেরি চাহার সোম্বা পালনের রীতি গড়ে ওঠে বলে মনে করা হয়।

অনেকেই এ দিনকে শুকরিয়া আদায়ের উপলক্ষ হিসেবে দেখেন। কেউ নফল নামাজ পড়েন, কেউ দোয়া করেন, আবার কেউ দান-খয়রাত বা অন্যান্য ইবাদতে অংশ নেন।

তবে দিনটি পালনের নির্দিষ্ট রীতি ও এর ধর্মীয় ভিত্তি নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে ধর্মীয় কোনো আমল পালনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য আলেম বা ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবারের ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক নিয়মে শিক্ষা কার্যক্রম চলার কথা রয়েছে।

মতামত দিন