তনু হত্যা: এক দশক পর ডিএনএতে নতুন সূত্র, ছয়জনকে ঘিরে তদন্ত।
২০১৬ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসে সোহাগী জাহান তনুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ১০ বছর পর তদন্তে নতুন করে আশার আলো দেখছেন তদন্তকারীরা। সাম্প্রতিক ডিএনএ পরীক্ষায় একাধিক ব্যক্তির জৈবিক নমুনার অস্তিত্ব শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য ছয়জনের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।
মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন ডিএনএ বিশ্লেষণে পাঁচজনের শুক্রাণু এবং একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এসব নমুনার সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলছে।
এ প্রক্রিয়ায় আদালতের অনুমতি নিয়ে এরই মধ্যে কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ১৭ জুলাই আরও দুজনের ডিএনএ সংগ্রহের অনুমোদন দেন আদালত। তাদের একজন তনুর পরিচিত ফয়সাল আহমেদ রাব্বি। অন্যজন সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। তদন্তের স্বার্থে আরেক সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ডিএনএ সূত্র ধরে তদন্তে এর আগে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত এপ্রিলে তাকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেয় পিবিআই।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সন্দেহভাজন সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ এবং সাবেক সেনাসদস্য শাহীন আলম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। জাহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের রেড নোটিসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শাহীন আলম এপ্রিল মাসে কুয়েতে চলে যান। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বর্তমানে সচল নেই। সর্বশেষ তার অবস্থান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় পাওয়া গিয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
তনুর পরিবার অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের অভিযোগ, শুরু থেকেই ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য বের করার দাবি জানিয়েছেন।
মা আনোয়ারা বেগমও মেয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। তিনি বলেন, মেয়েকে হারানোর পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। আদালতের অনুমোদন অনুযায়ী নতুন করে দুজনের ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিদেশে থাকা সন্দেহভাজনদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ারহাউস এলাকার একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তে একাধিক সংস্থা কাজ করেছে। ২০১৭ সালে সিআইডি জানিয়েছিল, তনুর পোশাকের নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় পর নতুন ডিএনএ বিশ্লেষণের তথ্য সামনে আসায় পুরোনো এই হত্যা মামলার তদন্ত আবারও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে।

মতামত দিন