রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

নতুন করে ইয়াবা কারবারিদের তালিকা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

টেকনাফ ও উখিয়ায় অপহরণ ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে টেকনাফে আরও দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সীমান্ত ও মাদক পাচারের রুটগুলোতে যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের হিলডাউন সার্কিট হাউসে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

মাদকবিরোধী অভিযানে নতুন করে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও বাহকদের শনাক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি, শীর্ষ কারবারি এবং বহনকারীদের নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে নতুন তালিকা তৈরি করা হবে। কক্সবাজার ও সীমান্ত এলাকার মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ কাজ করবে। পরে তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক পাচার বন্ধে সীমান্তের পাশাপাশি সমুদ্রপথেও নজরদারি বাড়ানো হবে। নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদারের পাশাপাশি মাদক পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলোতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়েও নেওয়া হচ্ছে নতুন পদক্ষেপ। ক্যাম্পের ভেতরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। অপরাধীদের শনাক্ত হওয়ার পর তাদের আইনের আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

নাফ নদে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মাছ ধরার কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথাও সভায় উঠে আসে। এ জন্য উখিয়া ও টেকনাফের জেলে ও মাছ ধরার নৌযান নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর ওপর নজরদারি চালাতে ১১টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পর কক্সবাজারে এ বিষয়ে প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশোধিত আইনের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে।

সভায় কক্সবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক পাচার ও অপহরণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, জেলা পরিষদ ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন