রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

গণতান্ত্রিক পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে সাংবাদিকদের ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সত্য তুলে ধরার সাহস দেখাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিলের আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হচ্ছে শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যম।

সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরার পাশাপাশি গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনার পরিবেশও থাকা প্রয়োজন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মতের অমিল থাকলেও অন্যের বক্তব্য প্রকাশের অধিকারকে সম্মান করতে হবে। রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা বাড়তে থাকলে দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো কঠিন হবে।

দেশের সাংবাদিকতার বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের সরাসরি চাপ না থাকলেও অনেক সাংবাদিক নিজেরাই নানা কারণে বক্তব্য প্রকাশে সংযত থাকছেন। এই আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও দৃঢ় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমের মালিকানা ও আর্থিক কাঠামো নিয়েও কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। তার মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এসব বিষয় বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন ও কর্মপরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুলের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই সাংবাদিকদের চাকরি চলে যায়। ন্যায্য বেতন ও চাকরির নিশ্চয়তার অভাব থাকলেও সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সবসময় প্রত্যাশিত মাত্রায় প্রতিবাদ দেখা যায় না। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিকদের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময়ের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে গণতন্ত্রের ধারাবাহিক চর্চা প্রতিষ্ঠা পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই ধারাবাহিকতা বারবার ব্যাহত হয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে অবিচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং পরে খালেদা জিয়াও সেই ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে সরকারের সমালোচনা করার পাশাপাশি দেশের বাস্তব পরিস্থিতিও দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরতে হবে। গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে, গণতন্ত্রের ভিত্তিও তত বেশি মজবুত হবে।

মতামত দিন