বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে আসছে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ, বদলে যেতে পারে স্বল্প দূরত্বের বিমান ভ্রমণ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

স্বল্প দূরত্বের বিমান ভ্রমণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে ইউরোপে। ব্যাটারি প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই কিছু আঞ্চলিক রুটে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চালুর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে একাধিক প্রতিষ্ঠান।

ইউরোনিউজ জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩০ সালের আগেই ইউরোপের আকাশে এ ধরনের বিমান দেখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারিচালিত ও হাইব্রিড উড়োজাহাজ চালু হলে স্বল্প দূরত্বের রুটে জেট জ্বালানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে কার্বন নিঃসরণ কমার পাশাপাশি জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাবও অনেকটা হ্রাস পাবে।

বর্তমানে ইউরোপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ৫০০ কিলোমিটার বা তার বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরির কাজ করছে। এসব প্রকল্প সফল হলে লন্ডন-ডাবলিন, এথেন্স-সান্টোরিনি, বার্সেলোনা-ইবিজা, নিস-কর্সিকা এবং রোম-সার্ডিনিয়ার মতো স্বল্প দূরত্বের রুটে এগুলো পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে দ্বীপাঞ্চলভিত্তিক রুটগুলোতে এ প্রযুক্তির কার্যকারিতা বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জার্মানির স্টার্টআপ ভ্যারিডিয়ন ৯ আসনের একটি বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরি করছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের এলিসিয়ান এয়ারক্রাফট ৯০ আসনের একটি মডেল নিয়ে কাজ করছে, যা একবার চার্জে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার উড়তে পারবে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ২০৩৫ সালে এটি সেবায় আনা। অন্যদিকে ফ্রান্সের অরা অ্যারো ১৯ আসনের একটি হাইব্রিড উড়োজাহাজের অনুমোদন ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ পাওয়ার আশা করছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ চলাচলের সময় সরাসরি কার্বন নিঃসরণ হয় না এবং শব্দদূষণও তুলনামূলক কম। তবে এর পূর্ণ পরিবেশগত সুফল পেতে চার্জিংয়ের বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসা প্রয়োজন। তাদের মতে, ভবিষ্যতের টেকসই আকাশপথ গড়ে তুলতে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ কমানোর উদ্যোগও সমানভাবে প্রয়োজন।

সূত্র: ইউরোনিউজ

মতামত দিন