আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের ইতিহাসে রাশিয়ায় ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

রাশিয়ার অভ্যন্তরে আবারও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। মস্কোর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এ তথ্য জানান অঞ্চলটির গভর্নর মিখাইল ইয়েভরায়েভ।

তিনি বলেন, রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট যৌথভাবে হামলা প্রতিহত করেছে। তবে ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনটি ব্যক্তিগত বাড়িতে আগুন লাগে। এছাড়া কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং একাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হতাহতের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলায় ইয়ারোস্লাভলের স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও টেলিগ্রামে হামলার কথা নিশ্চিত করে জানান, যুদ্ধের সামনের সারি থেকে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তার দাবি, বাশনেফট-নোভোইল এবং স্লাভনেফট-ইয়ানোস তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে টভার অঞ্চলেও ড্রোন হামলার প্রভাব পড়েছে। অঞ্চলটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইগর কোরোলেভ জানান, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ওয়াইল্ডবেরিজের একটি লজিস্টিকস কমপ্লেক্সে পড়ে ভবনের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কালিনিন জেলার একটি বাগান সমবায়ের কয়েকটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার রাতভর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৬০৫টি ফিক্সড-উইং ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষ্ণ সাগরে ওডেসার দক্ষিণ ও পূর্ব উপকূলের কাছে ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী দুটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালানোর দাবি করেছে তারা।

রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থান থেকে হামলার সাফল্যের দাবি করলেও, যুদ্ধের এই নতুন ধাপ দুই দেশের কৌশলগত জ্বালানি ও অবকাঠামোকে আরও বেশি ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মতামত দিন