সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।
আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সময় ও ব্যয় কমিয়ে বাণিজ্যের গতি বাড়াতে দেশের সব সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দরকে সার্বক্ষণিক পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা বাণিজ্যিক সেবা চালুর প্রস্তাব দেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন, যাতে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বন্দরে দিন-রাত নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করা যায়। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করবে।
মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে শুধু বন্দর নয়, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, শিল্পায়নের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বেসরকারি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরাও বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, বেজা ও বেপজার আওতাধীন শিল্পাঞ্চলগুলোতে কীভাবে আরও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনা যায় এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়াগুলো সহজ করা যায়, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন, বেসরকারি খাতের বিকাশে নীতিগত সহায়তা আরও শক্তিশালী করা হবে। প্রো-বিজনেস ও প্রো-ইনভেস্টমেন্ট নীতির মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের জন্য উদ্যোক্তা ও চাকরির সুযোগ বাড়ানোই সরকারের অগ্রাধিকার।
তিনি জানান, বৈঠকে উত্থাপিত কয়েকটি নীতিগত প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত হওয়ায় ব্যবসায়ী নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হওয়ার পাশাপাশি দেশের বিনিয়োগ ও রপ্তানি সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত স্লোগান—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—উল্লেখ করে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও জনগণের স্বার্থকে সামনে রেখেই সরকার বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

মতামত দিন