ট্রাম্পের কড়া বার্তা: মার্কিন সেনা নিহত হলে ‘বহুগুণ মূল্য’ গুনবে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানির জন্য ইরানকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনার জবাব দেওয়া হবে এবং ইরানকে তার চেয়ে অনেক বড় মূল্য দিতে বাধ্য করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশ ইতোমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওয়াশিংটনের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় জর্ডান ও ইরাকে দায়িত্বরত তিন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সময়ে দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে তেহরানের সামরিক পদক্ষেপে দুই দেশের উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তবে সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে নেপথ্যে আলোচনা চলছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার দরজাও খোলা রাখতে চাইছে ওয়াশিংটন।
এদিকে ট্রাম্প একই দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের কোনো সুযোগ নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইরানের শাসকগোষ্ঠীই দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলার জন্য দায়ী।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের অভিযোগের ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন। এমন বিতর্কের মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী তার নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর পিছিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সূত্র: আনাদোলু

মতামত দিন