আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

কংগ্রেসকে যুদ্ধের নোটিশ ট্রাম্পের, ইরান ইস্যুতে আরও ৬০ দিনের সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত গত শুক্রবার (১০ জুলাই) তারিখের এক চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চলমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া দেশের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

এই ঘোষণার আগে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেয় মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। তাদের অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

মার্কিন আইনের ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ অনুযায়ী, আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া কোনো সামরিক অভিযান ৬০ দিনের বেশি চালিয়ে যেতে হলে নতুন অনুমোদন প্রয়োজন। প্রশাসনের দাবি, কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার ফলে সেই সময়সীমা নতুন করে কার্যকর হবে।

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে। এ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।

এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন অবস্থান জানিয়েছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে এবং এখান দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ মাশুল আরোপ করা হবে।

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোকে আবারও নৌ অবরোধের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে ইরানের মালিকানাধীন বা দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

মতামত দিন