চট্টগ্রামে বন্যার মধ্যে বাড়ছে সাপের কামড়, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৫ জন।
চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে সাপের কামড়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৮৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বোয়ালখালী উপজেলা, যেখানে ২০ জন সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপর পটিয়ায় ১৮ জন, বাঁশখালীতে ১২ জন, রাউজানে ৯ জন, হাটহাজারীতে ৮ জন, সাতকানিয়ায় ৬ জন, আনোয়ারায় ৫ জন এবং রাঙ্গুনিয়া ও চন্দনাইশে তিনজন করে চিকিৎসা নিয়েছেন। লোহাগাড়া উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও দুইজন।
হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি মজুমদার জানান, শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের হাসপাতালে আটজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। অধিকাংশই লাউডগা সাপের কামড়ে আহত হন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। হাসপাতালের অ্যান্টিভেনমেরও কোনো সংকট নেই বলে জানান তিনি।
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে সাপের গর্ত ডুবে যাওয়ায় সরীসৃপগুলো মানুষের বসতবাড়ি ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে। এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে সাপের কামড়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, রাতে টর্চ ব্যবহার করা এবং মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাপে কামড়ের পর ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যার কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই। সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে প্রায় এক হাজার রোগীর চিকিৎসার উপযোগী অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। প্রয়োজনে আরও সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
মতামত দিন