আবহাওয়া
ছবি: সংগৃহীত

উজানের ঢল-বৃষ্টিতে ১৮ জেলার জন্য বন্যা সতর্কতা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বর্ষণ এবং উজানের ঢলের কারণে আগামী তিন দিনের মধ্যে অন্তত ১৮ জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের একাধিক নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে কোথাও নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে, আবার কোথাও চলমান পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। এফএফডব্লিউসির আশঙ্কা, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আরও বাড়বে। একই সময়ে ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া এবং হালদা নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু এলাকাও সাময়িকভাবে পানির নিচে চলে যেতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি। সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বাড়তে থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে চলমান বন্যা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং ভোগাই-কংস নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়ে নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কয়েকটি এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। যদিও মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও সতর্ক সংকেত দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। আগামী দুই দিনের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর অংশে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এছাড়া ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বন্যার শঙ্কা আরও বাড়িয়েছে দেশের ভেতরে ও উজানে অব্যাহত ভারী বৃষ্টি। আগামী দুই দিনে সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় উজানের নদীগুলো দিয়ে অতিরিক্ত পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রামে। এছাড়া সুনামগঞ্জে ২৬৫, আত্রাইয়ে ২৬০, লামায় ২০৭, বান্দরবানে ১৯৬, মহাদেবপুরে ১৯৩ এবং বরগুনায় ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ের মাউকিরওয়াতে ২৪৫ এবং চেরাপুঞ্জিতে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতও উজানের পানিপ্রবাহ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবানের সাঙ্গু, লামার মাতামুহুরী, মৌলভীবাজারের মনু ও ধলাই, হবিগঞ্জের খোয়াই এবং সিলেটের কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখযোগ্য। এসব পরিস্থিতির প্রভাবে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি বা আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি।

মতামত দিন