পানির নিচে সড়ক, সাজেক-লংগদুর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উপজেলার অন্তত ৩০টি পাড়া ও গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় দীঘিনালার বিভিন্ন সড়ক পানির নিচে চলে যায়। এর ফলে রাঙামাটির সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সঙ্গে দীঘিনালার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বেলছড়ি, বাচামেরুং, বড়মেরুং ও ছোটমেরুং বাজার এলাকা ডুবে যাওয়ায় মেরুং ও লংগদুর দিকেও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। কবাখালি এলাকার সড়ক প্লাবিত হওয়ায় সাজেকগামী সড়কেও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তায় পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার সেখানে আশ্রয় নিলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে গেছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামতে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষের সংখ্যাও বাড়তে পারে।
মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মীনা চাকমা জানান, ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ২৬টি পরিবার অবস্থান করছে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারসহ অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
মতামত দিন