কক্সবাজারে পাহাড়ধসে নিহত ১১।
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
মধ্যরাতে ঘুমন্ত পরিবারের ওপর নেমে এসেছে পাহাড়। টানা ভারি বৃষ্টিতে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের ঘরের ওপর। একই ঘরে সেই রাতে প্রাণ হারান কামাল (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে আনাস। পরিবারের আরও সাতজন আহত হয়ে প্রাণে বাঁচেন।
রাত সাড়ে তিনটার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পে একই পরিবারের চারজন নিহত হন — উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্পে মারা যায় সাত বছরের শিশু একরাম। পেকুয়ায় মারা যায় সাত বছরের শিশু মিনহাজ। কক্সবাজার শহরে আলী আকবর হাসপাতালে মারা যান। আজ দুপুরে দরিয়ানগরে আরও এক নারীর মৃত্যু হয়।
শরণার্থী কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলছেন, এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় — অনেকটাই মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বারবার সতর্ক করার পরেও অসাধু চক্র পাহাড় কাটা বন্ধ করেনি।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এখনো প্রায় তিন লাখ মানুষ বসবাস করছেন। ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নতুন করে ধসের আশঙ্কায় প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশ থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মতামত দিন