১৮ জেলায় ঝড়ের সতর্কতা; ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা-ভূমিধসের শঙ্কা।
দেশের ওপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব আরও জোরালো হওয়ায় আগামী কয়েকদিন ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার রাতের মধ্যেই দেশের ১৮ জেলার নদীবন্দর এলাকায় দমকা থেকে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মহানগরের নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং পার্বত্য এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, সোমবার রাত ১টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের হিসাবেও দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র বেশ স্পষ্ট। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া কুতুবদিয়ায় ১৪৯ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৩৮ মিলিমিটার, সন্দ্বীপে ১১৯ মিলিমিটার, বান্দরবানে ৮৩ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ৬৩ মিলিমিটার এবং খেপুপাড়ায় ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলমান মৌসুমি পরিস্থিতির কারণে আগামী পাঁচ দিন দেশের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও এর পরের পাঁচ দিন পর্যন্ত একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ভারী বর্ষণের সময় অপ্রয়োজনে পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াত না করা, নদীপথে চলাচলে সতর্ক থাকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলাই নিরাপদ।

মতামত দিন