বরিশালের আলোচিত ঘটনায় মিলল নতুন তথ্য।
বরিশালে অগ্রণী হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্যাতন করে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজ। এতে মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর সঙ্গে একজন সাবেক যুবদল নেতাকে ঘটনাস্থলে দেখা গেলেও মামলার আসামির তালিকায় তার নাম নেই।
ভিডিওতে দেখা যায়, লিটুর সঙ্গে একই সময়ে কক্ষে প্রবেশ করেন আফাস উদ্দৌলা অলিদ। তিনি এক পাশে বসে থাকলেও নির্যাতনের সময় কক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যান। যদিও ভিডিওতে তাকে ভুক্তভোগীর ওপর সরাসরি হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়নি।
এই ঘটনার পর রোববার (৫ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতারা দাবি করেন, আলোচিত ঘটনার মূল অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তাদের দলের বা কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য নন। একই সঙ্গে তারা বলেন, অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে দলীয় নেতাদের বক্তব্যের মধ্যেই সামনে আসে নতুন তথ্য। ভিডিওতে থাকা আফাস উদ্দৌলা অলিদ একসময় বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের ১০ নম্বর সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন।
যদিও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি ও বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম তসলিম উদ্দিন দাবি করেন, অলিদ বর্তমানে যুবদলের কোনো পদে নেই। তার ভাষ্য, ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যুবদলের পদ কার্যত আর বহাল থাকে না। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাতজনকে আসামি করা হলেও সেখানে অলিদের নাম নেই। একইভাবে ভিডিওতে উপস্থিত থাকা আমিনুল মৃধার নামও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। স্থানীয়ভাবে আমিনুলের বিরুদ্ধেও যুবদলের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী আব্দুল আজিজ বলেন, যাদের পরিচয় নিশ্চিতভাবে জানা ছিল, তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। অনেকের নাম-পরিচয় জানা না থাকায় অভিযোগে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করবে।
অভিযোগের বিষয়ে আফাস উদ্দৌলা অলিদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বলেন, সংশ্লিষ্ট ভিডিও তিনি আগে দেখেননি। তবে অলিদ অতীতে যে ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিতে ছিলেন, সেই কমিটি অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি কোনো সাংগঠনিক দায়িত্বে নেই। এরপরও তদন্তে অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মতামত দিন