আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন অব্যাহত রেখে প্রশান্ত মহাসাগরে আবারও দূরপাল্লার একটি কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে বেইজিং।

তবে এ পরীক্ষাকে ঘিরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এতে প্রকৃত বিস্ফোরক ওয়ারহেডের পরিবর্তে একটি ডামি ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছিল। সরকারের দাবি, এটি বার্ষিক সামরিক মহড়ার নির্ধারিত অংশ এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়েছে।

পরীক্ষার আগে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং জাপানসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশকে আগাম নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও জাপান এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বেইজিংকে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান স্টারবোর্ড প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের উড্ডয়ন ও গতিপথ পর্যবেক্ষণে চীন প্রশান্ত মহাসাগরে দুটি বিশেষ ট্র্যাকিং জাহাজ মোতায়েন করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রস্তুতি পরীক্ষাটির কৌশলগত গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ বিরতির পর চীন প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালায়। সর্বশেষ এই উৎক্ষেপণকে সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বেইজিংয়ের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও জোরদারের ইঙ্গিত বহন করছে।

যদিও প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে, চীনের অবস্থান হলো—এই সামরিক কার্যক্রম কোনো রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়নি। বরং এটি তাদের নিয়মিত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির অংশ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত বিধি অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু

মতামত দিন