আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুতসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে, যেখানে বুধবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই কমেছে।
গ্রিনিচ সময় বুধবার সকাল ১১টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬২ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দর ৩৮ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৬৯ দশমিক ১২ ডলারে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারির পর এটি ডব্লিউটিআইয়ের সর্বনিম্ন অবস্থান।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও বিনিয়োগকারীরা এখনও সতর্ক রয়েছেন। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান পিভিএম অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক টামাস ভার্গার ভাষ্য, আলোচনা ধীরগতিতে এগোলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় বেশি কমে গেলে বা হরমুজ প্রণালীতে আবারও জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বাজারের চিত্র দ্রুত বদলে যেতে পারে।
সূত্র জানায়, কাতারের দোহায় দুই দেশের কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক চলছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন হয়েছে। এ সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪৫ ডলার কমেছে, যা ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রায় ৩১ ডলার কমেছে, যা ২০২০ সালের করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক দরপতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমেছে, আর সেটিই মূল্যপতনের প্রধান কারণ। যুদ্ধ শুরুর পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সেই চাপ অনেকটাই কমে এসেছে।
রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, টানা পাঁচ মাস মূল্য পূর্বাভাস বাড়ানোর পর এবার প্রথমবারের মতো ২০২৬ সালের তেলের গড় দাম কমিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিকভাবে তেল পরিবহন শুরু হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
ব্রাজিলের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের প্রধান নির্বাহী ম্যাগদা শামব্রিয়ার্দের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ থেকে ৭৫ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন এখন যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
এখন বাজারের সবচেয়ে বড় নজর যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সাপ্তাহিক অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রতিবেদনের দিকে। এর আগে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) প্রকাশিত তথ্যেও গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

মতামত দিন