জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে বড় পরিকল্পনা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। রাজধানীনির্ভর চিকিৎসাসেবা কমিয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্র করেই নতুন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এজন্য উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্য ইউনিট চালু এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা, ইনডোর-আউটডোর সেবা, আধুনিক প্যাথলজি এবং আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি হাসপাতালে নারী ও পুরুষ—দুইজন ফিজিওথেরাপিস্টও দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা হাসপাতালগুলোতেও ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে জনবল সংকট দূর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জনগণের জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ স্থাপন এবং ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে একটি করে ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ড (ই-হেলথ কার্ড) দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ব্যবহৃত ওষুধের তথ্য সহজেই দেখা যাবে। প্রথম ধাপে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় ২৫ লাখ ই-হেলথ কার্ড বিতরণের জন্য ১৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিগগিরই ৫ হাজার চিকিৎসক এবং ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।

সরকারের নির্বাচনি পরিকল্পনায় যুক্তরাজ্যের জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) মডেল অনুসরণ করে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের অধীনে তিনটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকবে, যেখানে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কাররা সেবা দেবেন।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। সরকার বলছে, এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হবে তৃণমূলের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবল নিয়োগ এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নের কাজে।

মতামত দিন