'শ্যুট অ্যাট সাইট' নির্দেশে ভূমিকা — ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে রায় শুনলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ মঙ্গলবার তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে উসকানি থেকে শুরু করে নির্দেশনা দেওয়া পর্যন্ত একাধিক ভূমিকায় জড়িত ছিলেন ইনু। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী-জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কঠোর দমনের ইঙ্গিত দেন তিনি। পরদিন গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে অংশ নিয়ে 'শ্যুট অ্যাট সাইট' নির্দেশনা বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখেন।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, ২০ জুলাই নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন ইনু। এর জের ধরে কুষ্টিয়া শহরে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি, বোমা হামলা এবং আটক-নির্যাতনের পরিকল্পনায় শেখ হাসিনাকে নানাভাবে উসকানি দিতেন ইনু। ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাকাণ্ডের পদক্ষেপও তিনি অনুমোদন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন, যাদের মধ্যে ছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন দুজন। দীর্ঘ শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো। পুরো কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

মতামত দিন