কুড়িগ্রামে বন্যার শঙ্কা: নদীর পানি বাড়ছে, ভাঙনে আতঙ্কিত মানুষ।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার — এই চারটি নদীর পানি গত তিন দিন ধরে ক্রমশ বাড়ছে। এখনও পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানে ভারী বৃষ্টি চলতে থাকায় পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।
মঙ্গলবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি সামান্য কমলেও ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তায় পানি ২ থেকে ১৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, আগামী তিন দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে এবং তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পানি বাড়ার পাশাপাশি নদীভাঙন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩৫টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে। নদীপাড়ের মানুষ ঘরবাড়ি ও জমি হারানোর ভয়ে দিন পার করছেন। উলিপুরের রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মাহাবুবার রহমান বলেন, বছরের পর বছর ধরে এলাকাটি ভাঙছে, কিন্তু কেউ নজর দিচ্ছে না। অনেকে ইতোমধ্যে ভিটেমাটি সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। সদর উপজেলার আমিনা বেগমের কণ্ঠেও একই হাহাকার — "কোথায় যাবো জানি না, জায়গা-জমি বলতে নাই।"
কৃষকদের জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ তৈরি হয়েছে। নদী অববাহিকার কিছু পাটক্ষেতে ইতোমধ্যে পানি ঢুকেছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে পাটের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ২৫টি স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান। তবে অনুমতির অভাবে বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না — যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে।
মতামত দিন