দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল।
দক্ষিণ লেবানন থেকে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল। ওয়াশিংটনের চাপেই মূলত এই পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে নেতানিয়াহু সরকারকে — এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের রাষ্ট্রদূত এবং তিনজন ইসরায়েলি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এতে অংশ নেবেন। আলোচনায় মূলত লেবাননের সেনাবাহিনীকে দক্ষিণাঞ্চলে পুনরায় মোতায়েনের সুযোগ দিতে ইসরায়েলি বাহিনী কতটা পিছিয়ে আসবে — সেটি নির্ধারণ করা হবে।
মার্কিন বার্তা স্পষ্ট। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে — লেবাননে আগের মতো বাধাহীন সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ আর নেই। এমনকি যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে যে নতুন কাঠামো অনুমোদন হয়েছে, সেখানে ইরান ও কাতারকে রাখা হলেও ইসরায়েলকে বাইরে রাখা হয়েছে।
দুই মিত্রের মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ওয়াশিংটনের কাছে লেবানন প্রশ্নটি কেবল সীমান্ত সংকট নয় — এটি জড়িয়ে আছে হরমুজ প্রণালি, জ্বালানির দাম, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক সাফল্যের হিসাব-নিকাশের সঙ্গে। অন্যদিকে তেল আবিবের ভয়, সেনা প্রত্যাহার দুর্বলতার বার্তা দেবে এবং হেজবুল্লাহকে পুরস্কৃত করার মতো দেখাবে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৮ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে, যেখানে লেবাননসহ একাধিক ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এদিকে, গত মার্চ থেকে চলা ইসরায়েলি অভিযানে লেবাননে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, ১২ হাজারের বেশি আহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।

মতামত দিন