জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাসের চাহিদা মেটাতে হিমশিম, দৈনিক ঘাটতি ১১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ), তবে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

সোমবার (২২ জুন) সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন খাতের অনুমোদিত গ্যাস ব্যবহার বিবেচনায় দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহ হয়েছে গড়ে ২ হাজার ৬৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি। এ লক্ষ্যে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃকার্যক্রম (ওয়ার্কওভার) সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৮টি কূপে কাজ শেষ হয়েছে।

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সিসমিক জরিপও চলছে। ব্লক-৭ ও ব্লক-৯ এলাকায় কয়েক হাজার কিলোমিটার জুড়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেগুলোর বিশ্লেষণ চলছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জ, মেঘনা, বাখরাবাদ, চরফ্যাশন, জামালপুর, তিতাস ও ফেঞ্চুগঞ্জসহ একাধিক সম্ভাবনাময় এলাকায় নতুন জরিপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, অনুসন্ধান সক্ষমতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের জন্য নতুন দুটি ড্রিলিং রিগ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে ভোলা-বরিশাল-জাজিরা-মাওয়া-আমিনবাজার পাইপলাইন নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।

সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

মতামত দিন