যে কারণে ইরানের সিদ্ধান্তকে বিজয় মনে করছেন জেডি ভ্যান্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার ভাষ্য, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন পথ তৈরি করতে পারে।
সোমবার (২৩ জুন) বুর্গেনস্টকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ভ্যান্স জানান, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি আলোচনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন।
তিনি বলেন, পরমাণু কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত একটি বড় অগ্রগতি। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ কমানোর ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার বিষয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। বাণিজ্যিক নৌপরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদারে একটি যৌথ কাঠামো তৈরির দিকেও আলোচনা এগিয়েছে।
ভ্যান্স আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উপায় নিয়েও দুই পক্ষ মতবিনিময় করেছে। বিশেষ করে লেবাননকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা ঠেকানোর বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি বলেন, শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক শেষ হলেও আলোচনা থেমে যাচ্ছে না। পরবর্তী ধাপে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বৈঠক অব্যাহত থাকবে, যাতে সমঝোতার বিষয়গুলো বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেওয়া যায়।
চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও সম্পন্ন হয়নি উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, এখন পর্যন্ত যা হয়েছে, তা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির ভিত্তি নির্মাণের মতো। সামনে আরও কাজ বাকি থাকলেও আলোচনার বর্তমান গতি আশাব্যঞ্জক।
সূত্র: সিএনএন।
মতামত দিন