আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

টানা তৃতীয় বছরের মতো জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরায়েল।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে টানা তৃতীয়বারের মতো ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। নতুন এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সহিংসতা ও অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

জাতিসংঘের যাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ২৪ হাজারের বেশি শিশু গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। এসব শিশুর বিরুদ্ধে মোট ৩৮ হাজারেরও বেশি লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা এই বিষয়ক জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে। ওই অঞ্চলে ১২ হাজারের বেশি গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনা যাচাই করা হয়েছে। এরপর কঙ্গো, নাইজেরিয়া, মিয়ানমার ও সোমালিয়ার অবস্থান রয়েছে।

জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গত তিন দশকের পর্যবেক্ষণে এবারই প্রথম সরকারি বাহিনীগুলো শিশু অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি দায়ী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী, আর পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে সংঘাতের কারণে হাজার হাজার শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগ, অপহরণ এবং মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলে শিশুদের ওপর চলমান সহিংসতার মাত্রা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি গাজা উপত্যকায় চলমান পরিস্থিতিকে মর্মান্তিক উল্লেখ করেন এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির বিষয়েও সতর্কতা জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা জোরদার করা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে।

মতামত দিন