আন্তর্জাতিক
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের জব্দ অর্থ ফেরতের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, ডলারের আস্থা নিয়েও সতর্কবার্তা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ইরানের সম্পদ জব্দ করে রাখার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ডেকে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, তেহরানের মালিকানাধীন অর্থ ফেরত না দিলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মার্কিন ডলারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা অর্থের মালিক ইরান। তাই ভবিষ্যতে কোনো একসময় সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অন্য দেশের সম্পদ আটকে রাখার নজির দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ডলারের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে।

এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারকে সামরিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধার এবং পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন আলোচনা শুরুর ভিত্তি তৈরি হয়েছে। আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য সুইজারল্যান্ডে একটি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ কাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রদান করবে না। বরং পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ইরানে বিনিয়োগের সুযোগ পেতে পারেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে ইরানের আচরণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের ভূমিকার ওপর। ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা গেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হতে পারে।

মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশিত সমঝোতার খসড়ায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হলে ধাপে ধাপে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আওতায় জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞাগুলোও পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়া সফল হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।

মতামত দিন