বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে মিলল বিশাল পাখা-আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

লেক ভোস্টক — পৃথিবীর বৃহত্তম উপ-হিমবাহ হ্রদ — দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এবার জানা গেল, এই হ্রদটি আসলে একটি বিশাল পাখা-আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর অংশ — যা পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার তিন কিলোমিটারের বেশি পুরু বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে যুগ যুগ ধরে।

ইতালির ইউনিভার্সিটি অব জেনোয়ার বিজ্ঞানী ইজিডিও আরমাডিলোর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক একটি গবেষক দল এই আবিষ্কার করেছে। তারা এর নাম দিয়েছে ইস্ট অ্যান্টার্কটিক ফ্যান-শেপড বেসিন প্রভিন্স। মূলত উইলকস ও অরোরার মতো একাধিক সাবগ্লেসিয়াল বেসিনের জটিল এক জালের মতো কাঠামো এটি — যেখানে লেক ভোস্টকও অবস্থিত।

এই কাঠামো আবিষ্কারের পেছনে কাজ করেছে বহু ধরনের তথ্যের সমন্বয়। উপ-হিমবাহের ভূসংস্থান, চৌম্বকীয় তথ্য, মহাকর্ষীয় পরিমাপ এবং ভূকম্পন-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপাত্ত একসঙ্গে মিলিয়ে দেখেই বিজ্ঞানীরা এই উপসংহারে পৌঁছেছেন। তাঁদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই কাঠামো তৈরি হয়েছে 'ডিস্ট্রিবিউটেড রোটেশনাল এক্সটেনশন' নামের এক প্রক্রিয়ায় — যেখানে মহাদেশের ভূত্বক একটি কেন্দ্রবিন্দু থেকে ধীরে ধীরে বাইরের দিকে প্রসারিত হয়েছে। এটি পৃথিবীর মহাদেশীয় ভূত্বকে চিহ্নিত হওয়া এ ধরনের সবচেয়ে বড় রোটেশনাল এক্সটেনশনগুলোর একটি, এবং সম্ভবত এর শেকড় প্রাচীন সুপারকন্টিনেন্ট গন্ডোয়ানার সঙ্গে জড়িত একাধিক টেকটোনিক খণ্ডে।

এই আবিষ্কার নিছক ভূতাত্ত্বিক কৌতূহলের বিষয় নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটকালে এটির গুরুত্ব অপরিসীম। মাটির নিচে থাকা এই বেডরকের আকৃতিই নির্ধারণ করে অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশজুড়ে বরফ কীভাবে সরে যায়। সাবগ্লেসিয়াল হ্রদগুলোর অবস্থান বুঝতে এবং ঝুঁকিতে থাকা বরফের অংশগুলোর স্থায়িত্ব মূল্যায়ন করতে এই লুকানো কাঠামো এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মতামত দিন