জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

'জনগণের হক আর কাউকে লুট করতে দেওয়া হবে না': শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আস্থা অর্জনের শর্ত একটাই — জনগণের স্বার্থে রাজনীতি করা।জনগণের জন্য রাজনীতি না করলে আস্থা অর্জন সম্ভব নয় এবং জনগণের হক আর কাউকে লুট করতে দেওয়া হবে না।

বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি আগামী একবছরের পরিকল্পনার একটা স্পষ্ট ছবি তুলে ধরেন।

তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের ৪০ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড এবং সমান সংখ্যক কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড। হাসপাতাল ব্যবস্থাও বদলাবে — উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলো পাঁচ বছরের মধ্যে রূপ নেবে ১০০ শয্যার প্রতিষ্ঠানে।

অর্থ পাচারের প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন তিনি। বিগত ১৭ বছরে দেশের সম্পদ কীভাবে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে, তা পুরো জাতি প্রত্যক্ষ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এখন থেকে জনগণের প্রাপ্য কাউকে লুটে নিতে দেওয়া হবে না — উল্টো সেই অর্থ মানুষের কল্যাণেই কাজে লাগানো হচ্ছে। পাচার ও অপচয় বন্ধ করতে পারলে জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে অর্থের অভাব হবে না, এমন আশাবাদও প্রকাশ করেন তিনি।

বাজেট নিয়ে যে সমালোচনা চলছে, তার জবাবও দিলেন সরাসরি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষায় বাড়তি বরাদ্দ আর নিত্যপণ্যের শুল্ক প্রত্যাহারের মতো উদ্যোগ থাকা একটা বাজেটকে 'গণবিরোধী' বলাটা তাঁর চোখে স্রেফ হীনমন্যতা। দেশে অস্থিরতা তৈরি হলে সামাজিক সুরক্ষার কর্মসূচিগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে জনগণ এক থাকলে কোনো চক্রান্তই গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে পারবে না — এই আশ্বাস দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কঠিন সময়ে অনেকেই দেশ ছেড়ে গেলেও তিনি কখনো জনগণের পাশ থেকে সরে যাননি।

অনুষ্ঠানে বাস্তব সহায়তাও পেয়েছেন স্থানীয়রা। ৫০ জন নারী চা শ্রমিককে বাড়ি তৈরির জন্য দেওয়া হয় ২ লাখ টাকার অনুদান চেক, ১৫০ শিক্ষার্থী পেয়েছেন শিক্ষাবৃত্তি, এবং কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পেয়েছেন বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা। শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মতামত দিন