মেডিক্যাল বোর্ডের ছাড়পত্রের পর কারাগারে শিবিরের বহিষ্কৃত নেতা জিসান।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সুস্থ ঘোষণা করার পর আদালতের নির্দেশে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে তাকে কুমিল্লা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাইয়োব উদ্দিন কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তারের পর জিসান কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় গত রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে।
পর্যবেক্ষণ শেষে বোর্ড জিসানকে শারীরিকভাবে সুস্থ বলে মত দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জানান, ছাড়পত্রের পরও জিসান পুলিশের হেফাজতেই ছিলেন।
গত শুক্রবার রাতে দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং তার ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে অসুস্থতার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে পাঠানো হয়নি।
এর আগে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের দাবি করে তার পরিবার। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে পুলিশের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, জিসান অপহরণের শিকার হননি; বরং তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
২৮ বছর বয়সী জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ সামনে আসার পর সংগঠনটি তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

মতামত দিন