জুনের প্রথমার্ধেই রেমিট্যান্স এলো ১৬২ কোটি ডলারের বেশি।
দেশে বৈধ পথে প্রবাসী আয় প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনেই বিভিন্ন দেশ থেকে ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের সমান।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুনের প্রথম ১৫ দিনে যেখানে এসেছিল প্রায় ১৪৭ কোটি ৯৯ লাখ ডলার, সেখানে এবার সেই অঙ্ক ১৬২ কোটি ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরুর পর ১৫ জুন পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রতিযোগিতামূলক ডলার বিনিময় হার, সরকারি প্রণোদনা এবং বৈধ লেনদেন সহজ হওয়ার কারণে প্রবাসীরা এখন আগের চেয়ে বেশি আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোর পরিসংখ্যানও একই ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে। মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এরও আগে মার্চে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসে নতুন রেকর্ড গড়ে।
এ ছাড়া এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০২৪ সালের শেষ দুই মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী ছিল; ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরেও নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত দিন