অপরাধ
ছবি: সংগৃহীত

শিশু হত্যা ঘিরে লালমনিরহাটে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ওসিসহ আহত ৩০।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

আদিতমারী উপজেলার একটি গ্রামের ভুট্টাক্ষেত থেকে সাত বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটককে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকালে ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে স্থানীয়রা একটি বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। নিহত নন্দিনী রানী স্থানীয় কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে। পরিবারের দাবি, আগের দিন বিকেল থেকেই সে নিখোঁজ ছিল।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহের তালিকায় উঠে আসে পরিবারের পরিচিত এক যুবক, বিধান (১৯)। তাকে হেফাজতে নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের একাংশ তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান। তবে অভিযুক্তকে সরিয়ে নেওয়ার সময় প্রশাসনের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এতে কয়েকটি সরকারি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুলিশ সদস্যসহ বহু মানুষ আহত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাউন্ড গ্রেনেডও নিক্ষেপ করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।

মতামত দিন