খেলা-ধুলা
ছবি: সংগৃহীত

তারকার ঘাটতি নেই, তবু আর্জেন্টিনার আসল শক্তি অন্য জায়গায়।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

এমবাপ্পে-অলিসের ফ্রান্স, ইয়ামাল-রদ্রির স্পেন, রোনালদো-ব্রুনোর পর্তুগাল — কাগজে-কলমে তারকার ভিড়ে আর্জেন্টিনা হয়তো একটু পিছিয়ে। কিন্তু মাঠে নামলে হিসাবটা পাল্টে যায়।

কারণ মেসির দলের কাছে এমন একটা অস্ত্র আছে, যা অন্য কোনো দলের শস্ত্রাগারে নেই।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে মেসি ইনস্টাগ্রামে দলের একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন। সঙ্গে একটাই শব্দ — 'জুন্তোস'। স্প্যানিশে যার অর্থ 'একসাথে'। এই একটি শব্দেই লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার পুরো দর্শন।

বেশিরভাগ জাতীয় দল বছরে বড়জোর ১৫ থেকে ২০ দিন একসঙ্গে সময় কাটায়। আর্জেন্টিনা সেখানে সম্পূর্ণ আলাদা। ক্লাব ফুটবলের বিরতিতে যখন অন্যরা যার যার মতো ছুটি কাটায়, আলবিসেলেস্তেরা তখন পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বেরিয়ে পড়ে। কখনো স্পেন, কখনো যুক্তরাষ্ট্র, কখনো মালদ্বীপ — গন্তব্য বদলায়, কিন্তু সঙ্গ বদলায় না।

এই মেলামেশার ফল হলো এক গভীর ভ্রাতৃত্ব, যা ড্রেসিং রুমের বাইরেও টিকে থাকে। মেসিকে তাঁর সতীর্থরা শুধু অধিনায়ক হিসেবে নয়, দেখেন আইডল হিসেবে, বড় ভাই হিসেবে। নতুন বা পুরোনো — সবার সঙ্গে তিনি একইভাবে মেশেন।

কোচ স্কালোনিও এই সংস্কৃতি গড়তে বড় ভূমিকা রেখেছেন। দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তিনি নিজেও সক্রিয় থাকেন, সবার মতামত নেন। এই পরিবেশের কারণেই ডি পল, ম্যাক অ্যালিস্টার বা এনজো ফার্নান্দেজরা জাতীয় দলে এলে যেন নতুন রূপে জেগে ওঠেন।

২০২২ বিশ্বকাপে এই একতাই ছিল আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। এবারও সেই গল্পের পুনরাবৃত্তির অপেক্ষায় আলবিসেলেস্তে সমর্থকরা।

মতামত দিন