ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে চাপে নেতানিয়াহু।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ায় সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সঙ্গে বিশেষ ঘনিষ্ঠতার দাবি করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলে আসা নেতানিয়াহুর সেই কৌশল এখন প্রশ্নের মুখে।
তেল আবিবের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জনাথন রিনহোল্ড রয়টার্সকে বলেন, এই চুক্তিকে ইসরায়েলি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা নেতানিয়াহুর পক্ষে কার্যত অসম্ভব। তাঁর মতে, নেতানিয়াহু আসলে চাইছেন চুক্তিটি ভেস্তে যাক এবং ৬০ দিন পর ইসরায়েলের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতিতে যুদ্ধ নতুন করে শুরু হোক।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এবং ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তি বাতিলের মতো সিদ্ধান্তগুলো নেতানিয়াহুর পক্ষেই গিয়েছিল। ২০১৯ সালের নির্বাচনে তিনি সারা দেশে ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের করমর্দনের বিশাল বিলবোর্ড টানিয়েছিলেন — বার্তাটি ছিল স্পষ্ট: ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
কিন্তু ইরানের সঙ্গে চুক্তির পর সেই দাবি অনেকটাই ফাঁকা মনে হচ্ছে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি মনে করেন ট্রাম্প তাদের নিরাপত্তাকে আসলে গুরুত্ব দেন। মার্চ মাসে এই সংখ্যাটি ছিল ৬৪ শতাংশ — মাত্র কয়েক মাসে আস্থার এই পতন নেতানিয়াহুর জন্য অস্বস্তিকর।
অবশ্য ইসরায়েলের জ্বালানি মন্ত্রী এলি কোহেন সতর্ক বার্তা দিয়ে রেখেছেন — ইরান যদি ভবিষ্যতে পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করে, তাহলে ইসরায়েল প্রয়োজনে একাই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
সূত্র: রয়টার্স
মতামত দিন