যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ও গাড়িতে আগুন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বাড়ি ও গাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা নিছক অপরাধ নয় — এর পেছনে রয়েছে রাশিয়ার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতের জুরি দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এরা হলেন ২২ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় নাগরিক রোমান লাভরিনোভিচ এবং ২৭ বছর বয়সী ইউক্রেনে জন্ম নেওয়া রোমানীয় নাগরিক স্ট্যানিস্লাভ কার্পিউক।
ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের মে মাসে। উত্তর লন্ডনে স্টারমারের পুরোনো একটি টয়োটা গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কিছুদিনের মধ্যে আরও দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যার একটি ছিল স্টারমারের নিজের সম্পত্তি — যেখানে তাঁর শ্যালিকা ভাড়ায় থাকতেন।
আদালতে জানা যায়, টেলিগ্রামে 'ইএল মানি' নামের একটি রুশভাষী অ্যাকাউন্ট থেকে লাভরিনোভিচকে অনলাইনে খুঁজে বের করা হয়। শুরুতে পোস্টার লাগানো আর দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার মতো ছোট কাজ দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে তাকে অগ্নিসংযোগে নামানো হয়। বিনিময়ে দেওয়া হয়েছিল এক হাজার ডলার ও রুশ নাগরিকত্বের প্রলোভন। তদন্তে বেরিয়ে আসে, লাভরিনোভিচ হয়তো জানতেনই না যে তিনি আসলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছেন।
বিবিসির অনুসন্ধান বলছে, 'ইএল মানি' আসলে ২৩ বছর বয়সী রুশ কূটনীতিক ইয়েভজেনি লিউকশিন হতে পারেন, যিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত। তিনি টেলিগ্রামে পুতিনের প্রশংসা করতেন, ইউক্রেনবিরোধী বিদ্বেষ ছড়াতেন এবং ওয়াগনার গ্রুপ সমর্থিত চ্যানেলেও তাকে সক্রিয় দেখা গেছে। বিবিসি যোগাযোগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই চ্যানেলটি অনলাইন থেকে উধাও হয়ে যায়।
এই ষড়যন্ত্র কেবল অগ্নিসংযোগেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রুশ এজেন্টরা সোশ্যাল মিডিয়া ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভুয়া উগ্র-ডানপন্থী ও মুসলিম গোষ্ঠী তৈরি করে যুক্তরাজ্যে বিভেদ ও আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চালায়। হামলা নিয়ে ছড়ানো মিথ্যা তথ্য পরে টমি রবিনসনের মতো ইসলামবিরোধী কর্মীরা প্রচার করেন।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যে রুশ দূতাবাস যেকোনো সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তবে লিউকশিন নিজে বিবিসির কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।
সূত্র: বিবিসি

মতামত দিন