ইসলামের আলো
ছবি: সংগৃহীত

হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম, ক্ষমা ও ইবাদতের এক অনন্য মাস।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম। শুধু নতুন বছরের সূচনা হিসেবে নয়, ইসলামের দৃষ্টিতে এই মাসটি ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ সুযোগ।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব আর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য — দুটো মিলিয়ে মহররম মুসলিম জীবনে এক আলাদা মর্যাদা বহন করে।

রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের পর অন্য কোনো মাসে রোজা রাখতে চাইলে মহররমে রাখো। কারণ এটি আল্লাহর মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যেদিন আল্লাহ অনেকের তওবা কবুল করেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। (তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ)

এই মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ১০ মহররম বা আশুরার রোজা। সেই সঙ্গে তওবা-ইসতিগফার ও দান-সদকার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআন-হাদিসে বর্ণিত ইসতিগফারের দোয়াগুলো বুঝে বুঝে পড়লে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার আশা রাখা যায়।

আশুরার রোজার পেছনে রয়েছে এক গভীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। মদিনায় হিজরতের পর রসুল (সা.) দেখলেন ইহুদিরা এই দিনে রোজা রাখছেন। জিজ্ঞেস করতে তারা জানালেন — এই দিনে আল্লাহ হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর উম্মতকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন, আর ফেরাউন বাহিনীকে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুসা (আ.) সেদিন রোজা রেখেছিলেন। রসুল (সা.) তখন বললেন, মুসা (আ.)-এর এই নাজাতে কৃতজ্ঞতা আদায়ের অধিকার আমাদেরই বেশি। এরপর থেকে তিনি নিজে আশুরায় রোজা রাখলেন এবং মুসলমানদেরও রাখতে বললেন। (বুখারি ও মুসলিম)

আশুরার দিনটি আরেকটি কারণেও মুসলিম হৃদয়ে চিরকালের জন্য গেঁথে আছে। ৬১ হিজরিতে কারবালার মরু প্রান্তরে রসুল (সা.)-এর প্রিয় নাতি ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের কাছে মাথা না নুইয়ে শাহাদাতকে বেছে নেন। ইয়াজিদের মতো একজন অযোগ্য শাসককে খলিফা মানতে অস্বীকার করায় তাঁর ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়। পরিবার ও সঙ্গীসহ অবরুদ্ধ অবস্থায় তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে জীবন দিলেন — এই ত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।

হিজরি সনের সূচনাও ইতিহাসের এক চমৎকার অধ্যায়। দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর আমলে একটি চুক্তিপত্রে "শাবান মাস" উল্লেখ দেখে তিনি প্রশ্ন করলেন — এটা কি গত শাবান, নাকি আগামী শাবান? সেই বিভ্রান্তি থেকেই রসুল (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতকে কেন্দ্র করে হিজরি সন গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আর মহররমকে বছরের প্রথম মাস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

আল্লাহ তাআলা বারোটি মাসের মধ্যে চারটিকে বিশেষভাবে সম্মানিত ঘোষণা করেছেন। সুরা তওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে এর উল্লেখ আছে। বিদায় হজে মিনার প্রান্তরে রসুল (সা.) সেই চার মাসের নাম বললেন — জিলকদ, জিলহজ, মহররম এবং রজব। মহররম তাদের একটি — এই সম্মান তার আলাদা মর্যাদার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

তাই মহররম এলে শুধু নতুন বছরের আগমন উদযাপন নয়, বরং এই মাসকে ইবাদত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোই একজন মুমিনের করণীয়।

মতামত দিন