ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতাকে স্বাগত জাতিসংঘের, টেকসই শান্তির লক্ষ্যে সংযমের আহ্বান গুতেরেসের।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে তা স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম করবে।
মহাসচিবের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমঝোতার আওতায় তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা এবং পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখায় পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, বর্তমান অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত চূড়ান্ত সমাধানের লক্ষ্যে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে যাওয়া। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, একটি সর্বাত্মক ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে বৈরুতে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি বিমান হামলারও তীব্র সমালোচনা করেছেন মহাসচিব। তার মতে, যুদ্ধবিরতির পরিবেশ এবং সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়ার মধ্যেই এমন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলছে। তাই সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংঘাতের পটভূমিতে জাতিসংঘ জানায়, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রভাব গিয়ে পড়ে হরমুজ প্রণালীতে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত।
যদিও এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, এরপরও বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই ধারাবাহিকতায় লেবানন সীমান্তেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যেখানে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
সূত্র: জাতিসংঘ
মতামত দিন