সোশ্যাল মিডিয়া নির্ধারণ করছে রাজনীতির গতিপথ,তরুণরা এখন মূল লক্ষ্য।
গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা এক্সের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ মত প্রকাশ করছে, তথ্য আদান-প্রদান করছে, এবং রাজনৈতিক দল ও সরকারও প্রথাগত কাঠামোর বাইরে জনমত গঠন করছে।
দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটির বেশি, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৪.৩ শতাংশ। এর মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারী ৬ কোটি, টিকটক ব্যবহারকারী ৪ কোটি ৬০ লাখ, এবং লিংকডইন ও ইনস্টাগ্রাম যথাক্রমে ৯৯ লাখ ও ৭৫ লাখ। ব্যবহারকারীর বড় অংশ তরুণ। তাই রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মূলত তরুণদের লক্ষ্য করে নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈদেশিক কমিটির বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অফলাইনের তুলনায় বেশি সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, তবে এটি অনিয়ন্ত্রিত মাধ্যম হওয়ায় গুজব, ভুয়া ছবি, মিসলিডিং নিউজ এবং ডিসইনফরমেশনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম জানান, তরুণদের অনুপ্রাণিত করার জন্য বিশেষ সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা চালানো হবে যাতে তারা ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উদারপন্থী ও রক্ষণশীল ব্যবহারকারীরা কার্যত আলাদা রাজনৈতিক তথ্যজগতে বসবাস করছে, যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের ওপর প্রভাব ফেলছে। এতে গুজব ও অপতথ্যের প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে, এবং এআই প্রযুক্তিও নেতিবাচক প্রভাব রাখছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানান, ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে কোন ব্যবহারকারী প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তা শনাক্ত করা সম্ভব, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এই নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব আগের তুলনায় আরও গভীরভাবে দেখা যাবে। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
মতামত দিন