সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন হাদির শারীরিক অবস্থা ক্রিটিক্যাল,সিটিস্ক্যানে মস্তিষ্কের ‘ইসকেমিয়া’ বেড়েছে।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ রাজনৈতিক নেতা ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা এখনও গুরুতর। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নতুন সিটিস্ক্যানের রিপোর্টে দেখা গেছে তার মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের ঘাটতি বা ইসকেমিয়া আগের মতোই বিদ্যমান এবং কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন এবং সরাসরি হাদির চিকিৎসায় যুক্ত ডা. আব্দুল আহাদ জানান, সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর তার মস্তিষ্কে নতুন করে সিটিস্ক্যান করা হয়েছে। স্ক্যানের ফলাফলে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে রক্ত চলাচলের ঘাটতি এখনও বিদ্যমান এবং আগের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেনের নিউরোলজিক্যাল রিফ্লেক্সগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাদির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে “ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড স্ট্যাটিক”—অর্থাৎ অবনতি হয়নি, তবে কোনো উন্নতিও ঘটেনি। তার ফুসফুস ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রয়েছে, হৃদযন্ত্র কার্যক্রম চিকিৎসার সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে, এবং কিডনির ইউরিন আউটপুট নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।
তবে মাথার ভেতরে রয়ে যাওয়া গুলির অংশ অপসারণে নতুন করে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার করলে যে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হবে তার নিশ্চয়তা নেই এবং দীর্ঘ অস্ত্রোপচার বা যাত্রার ঝুঁকি বর্তমান শারীরিক অবস্থায় আরও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছু মহল থেকে তাকে সিঙ্গাপুরের বাইরে ইউকে বা যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার আলোচনা হলেও চিকিৎসকরা মনে করছেন, বর্তমানে তার দীর্ঘ ভ্রমণ সহ্য করার সক্ষমতা নেই। এ বিষয়ে পরিবারের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, হাদির চিকিৎসা আপাতত সিঙ্গাপুর জেনারেল হসপিটালেই চলবে। নিয়মিত পরীক্ষা ও ক্লোজ মনিটরিং চলছে। তবে প্রতিদিন আলাদা করে নতুন কোনো অগ্রগতি নেই।
ইনকিলাব মঞ্চও তাদের ফেসবুক পেজে হাদির শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানায়। সেখানে বলা হয়েছে, “চিকিৎসা স্থিতিশীল করা হচ্ছে। অপারেশনের জন্য প্রথমে শরীরকে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল করতে হবে। ব্রেন সক্রিয় করার জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন, মূল লক্ষ্য হলো শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে সংযোগ পুনঃস্থাপন।”
হাদির পরিবার দেশের মানুষকে বিশেষ দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা আশা করছেন, আল্লাহ তাঁকে সুস্থতার আশীর্বাদ দান করবেন। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশে যেভাবে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা সিঙ্গাপুরেও বজায় রাখা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে।
মতামত দিন