নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছেন আসিফ ও মাহফুজ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সরে দাঁড়ানো দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম এখনো সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছেন নিরাপত্তাজনিত কারণে। বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নির্ধারিত বলে জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ নিজেই।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে সরকার তাদের সরকারি বাসায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পদত্যাগের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সরকারি বাসায় অবস্থানের ক্ষেত্রে আইনি কোনো জটিলতাও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পদত্যাগের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দুই সাবেক উপদেষ্টা সরকারি বাসভবন ছাড়েননি এবং এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন আসিফ মাহমুদ।
গত ১০ ডিসেম্বর বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের পদত্যাগ কার্যকর হয়। পরদিন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন।
দায়িত্বকালীন সময়ে আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে মাহফুজ আলম প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে যুক্ত হন, পরে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। সব মিলিয়ে একজন ১৫ মাস ও অন্যজন ১৩ মাস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন।
বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণায় আসিফ মাহমুদের ভূমিকা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। একইভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে মাহফুজ আলমও আলোচনায় আসেন।
বর্তমানে পদত্যাগের পরবর্তী সময়ে তারা কী রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ভূমিকায় থাকবেন—সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

মতামত দিন