রাজনীতি
ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কাঠামোর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান সারজিস আলমের।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক আলোচনা সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চল সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন—চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর অর্ধবছর পেরোলেও মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির পুরোনো চিত্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে পৌরসভার বিজয় চত্বরে উপজেলা এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত ওই সভায় তিনি বলেন,
“যে সিস্টেমের বিরুদ্ধে জনগণ রাস্তায় নেমেছিল—দুর্নীতি, ঘুষ, তদবির, ক্ষমতার অপব্যবহার—সেগুলো ধীরে ধীরে আবার ফিরে আসছে।

থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ এখনো সমানভাবে কথা বলতে পারে না, ভূমি অফিসে কাজ করাতে টাকা না দিলে ফাইল এগোয় না।”

‘লড়াই ছিল সিস্টেমের বিরুদ্ধে, ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়’

সারজিস আলম বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন কেবল কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে ছিল না। এটি ছিল এমন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যেখানে—

  • চিকিৎসা পেতে ঘুষ দিতে হয়,

  • জমির কাজ এগোতে টাকা লাগে,

  • চাকরি পেতে তদবির চাই,

  • আর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সাধারণ নাগরিকের কথা শোনার সংস্কৃতি নেই।

তার দাবি, আন্দোলনের পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুরোনো অনিয়ম আবার প্রকাশ্যে ফিরে এসেছে।

‘দলীয় প্রশাসন বরদাস্ত করা হবে না’

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—কোনো জেলা বা উপজেলার প্রশাসন যদি রাজনৈতিক পক্ষপাত দেখায়, তবে এনসিপি অন্য দলগুলোকেও সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন:
“ইউএনও-ওসি-ডিসি-এসপি—যে-ই হোক, যদি কোনো দলের হয়ে কাজ করে, জনগণের সেবক হিসেবে তাদের সেখানে থাকার অধিকার থাকে না।”

ভালো কাজের স্বীকৃতি, অপকর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান

নিজ দলের কর্মীদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, অন্য কোনো দলের ভালো উদ্যোগ থাকলে তা প্রশংসা করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সহযোগিতাও করতে হবে। কিন্তু অনিয়ম, দুর্ব্যবহার বা রাজনৈতিক হুমকি—যে-ই করুক—প্রতিবাদ জানাতে হবে দৃঢ়ভাবে।
তিনি বলেন,
“আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে শুধু ভালো কাজকে কেন্দ্র করে। কিন্তু কেউ আমাদের গণতান্ত্রিক কার্যক্রমে বাধা দিলে তারও মোকাবিলা করা হবে—রাজনৈতিকভাবেও, আইনগতভাবেও।”

‘নতুন স্বৈরাচার জন্ম নিতে দেওয়া হবে না’

আওয়াজ তুলে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতাকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার চেয়ে বড় স্বৈরাচার বাংলাদেশে আর দেখা যায়নি। তাই এখন কেউ রাজনৈতিক ভয় দেখানো বা চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মো. মাসুদ পারভেজ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ এবং যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

মতামত দিন